উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, প্রত্যাবাসনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন

ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শনের সময় এর পাশের সড়কে প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তরুণ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে রোহিঙ্গারা, (ইনসেটে) মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে রোহিঙ্গারা, (ইনসেটে) মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। সফরকালে তারা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন রোহিঙ্গারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে প্রতিনিধি দলটি প্রথমে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এ/৫৮ ব্লকে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আশপাশের রোহিঙ্গা শেল্টার এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শনের সময় এর পাশের সড়কে প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তরুণ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে নিজ ভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি, দীর্ঘ শরণার্থী জীবনের অবসান এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এরপর প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৬-এর এ ব্লকে অবস্থিত IRC Health Centre পরিদর্শন করে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে তারা ক্যাম্প-৪-এর ব্লক-১-এ অবস্থিত E-Voucher Data Centre ও LPG Distribution Centre-এর কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের ৩৩টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় সহায়তাকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর রোহিঙ্গা সঙ্কট, মানবিক সহায়তা এবং টেকসই সমাধান, বিশেষ করে নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আনতে সহায়ক হতে পারে।