শাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি, ৪ প্রার্থীর স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন শর্তহীনভাবে আয়োজনের দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর তা থেকে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থীসহ চারজন।

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপিতে দেয়া স্বাক্ষর প্রত্যাহারের দাবিতে আবেদন জানান ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীসহ ৪ জন
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপিতে দেয়া স্বাক্ষর প্রত্যাহারের দাবিতে আবেদন জানান ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীসহ ৪ জন |নয়া দিগন্ত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন শর্তহীনভাবে আয়োজনের দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর তা থেকে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থীসহ চারজন। স্মারকলিপি দেয়ার পর সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ব্যক্তিগত বিপদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তারা এ আবেদন করেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদনপত্র জমা দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ।

তিনি বলেন, ‘স্মারকলিপি থেকে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের জন্য দু’জন ভিপি প্রার্থী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বা ৭টার দিকে আবেদন করেছেন। এর আগে আরো দু’জন প্রার্থী একই ধরনের আবেদন করেন। প্রার্থীদের আবেদনগুলো আমরা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করা চার প্রার্থী হলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক প্রার্থী তাজুল ইসলাম, সদস্য প্রার্থী আফফান ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ শুভ।

ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ তার প্রত্যাহার আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘আজ নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছিলাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমার দৃঢ়ভাবে মনে হচ্ছে, উক্ত স্মারকলিপির মাধ্যমে আমাদেরকে পূর্বের ন্যায় পুনরায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি স্বজ্ঞান ও স্বেচ্ছায় স্মারকলিপিতে প্রদত্ত আমার স্বাক্ষর প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের স্মারকলিপি দেয়ার সাথে শাকসু নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়ভার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অঙ্গীকারনামা দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রশাসন তা দিচ্ছে না। এর অর্থ হচ্ছে, প্রশাসনের অঙ্গীকারনামা ছাড়া আমাদের স্মারকলিপি কেবল ইসির কাছে একটি ‘মূলা ঝোলানো’ বিষয়।

দ্বিতীয়ত, এ চিঠি দেয়া হয়েছে বুধবার বিকেলে। এর মাঝে শুক্রবার ও শনিবার ছুটি থাকায় ইসির পক্ষ থেকে উত্তর আসতে আসতে নির্বাচনের সময় আরো ঘনিয়ে আসবে, অথচ আমাদের অনেকেই এখনো প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে প্রার্থীদের স্বাক্ষর দেয়া এ স্মারকলিপিকে কোনো অঙ্গীকারনামা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এসব শঙ্কা থেকেই আমি নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

অন্যদিকে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ শুভ তার প্রত্যাহারপত্রে লিখেছেন, ‘আমি আজ ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেছিলাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমার দৃঢ়ভাবে মনে হচ্ছে, উক্ত স্মারকলিপির মাধ্যমে আমাদেরকে পূর্বের ন্যায় বিপদে ফেলানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি স্বেচ্ছায় স্মারকলিপিতে প্রদত্ত আমার স্বাক্ষর প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন আয়োজন না করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের অপতৎপরতার চেষ্টা করছে। এ কারণেই শাকসু নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনটি বানচাল করা যায়। এখন শাকসু কেন্দ্রিক কোনো ঝামেলা হলে স্মারকলিপিতে থাকা আমার স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা যেকোনো পক্ষ আমাকে বিপদে ফেলতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই আমি স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছি।’

এর আগে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থীসহ মোট ৭৬ জন প্রার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, ‘গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের সাথে শাকসু নির্বাচনের কোনো সংশ্লিষ্টতা কিংবা সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই। সুতরাং পূর্বনির্ধারিত সময়েই কোনো নতুন শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।’