নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরি করতে দেখে ফেলায় ছুরিকাঘাতে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
নিহত নারী আমেনা বেগম (৪৫) ওই এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ও চুরির অভিযোগে পিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম (৩২) একই উপজেলার বিরাব খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে বাবুল দেওয়ানের নতুন বাড়িতে টাইলস স্থাপনের কাজ করেছিলেন মেহেদী। কাজ শেষ হয়ে গেছে চারদিন আগে। কিন্তু ওই যুবক শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মোবাইল চুরি করতে ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘরে থাকা বাবুলের স্ত্রী আমেনা মোবাইল চুরি করতে দেখে ফেলায় তাকে ছুরিকাঘাত করে মেহেদী। এতে গলায় গুরুতর জখম হয় ওই নারীর। পরে নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে মেহেদীকে আটক করে। আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মেহেদীকেও গণপিটুনি দেন নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। দুই মৃত্যুর ঘটনা ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ঘটেছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুরি ও ছুরিকাঘাত অভিযোগ ওঠার পর বাবুল দেওয়ানের বাড়িতেই বেঁধে রাখা হয়েছিল অভিযুক্ত মেহেদীকে। পরে পুলিশ এলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। কিন্তু আহত নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তকে ওই বাড়ি থেকে বের করে গাড়িতে তোলার পথে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন বিক্ষুব্ধরা। পরে তাকে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি, কিল ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
যদিও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পরপরই এই ঘটনা ঘটে। আমরা সম্পূর্ণভাবে কাস্টডিতে নিতেও পারিনি, তার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন এই ঘটনা ঘটায়।’
দু’টি লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং উভয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ই আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।



