জীবননগরে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ২

জামায়াত ও জুয়েলার্স সমিতির পৃথক বিক্ষোভ

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে সংঘর্ষে হাতুড়ি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়।

আতিয়ার রহমান, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Jibannagar
সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমান, (ডানে) জামায়াতের বিক্ষোভ
সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমান, (ডানে) জামায়াতের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজার এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পূর্ব বিরোধের জেরে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ দু’জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জীবননগর-কালীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে হাসাদহ কামিল মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর বাজারের একজন জুয়েলার্স ব্যবসায়ী এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে সংঘর্ষে হাতুড়ি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মাহফুজ হোসেন, মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। মাহফুজ হোসেনের বাম হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। মফিজুর রহমানের মাথার পেছনে কাটা জখম হয়। হাফিজুর রহমানের মাথার বাম পাশে ফাটা জখম ও নাকে আঘাত লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাহফুজ ও হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে গভীর রাতে হাফিজুর রহমান মারা যান। অন্যদিকে মফিজুর রহমান বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ এলাকার মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তি হাসুয়া নিয়ে সুটিয়া গ্রামে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনার জের ধরে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সুটিয়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম হাসাদহ বাজারে গেলে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামায়াতের জীবননগর উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জীবননগর শাখাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পৃথক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রিপন কুমার দাস জানান, এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।