ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির এক কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিএনপির ছাত্রদলকর্মী মামুন আল-আমিন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মামুন আল-আমিন মইলাকান্দা ইউনিয়নের ডেংগা গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে এবং গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী।
তিনি এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে মামুন আল-আমিন উল্লেখ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ‘ঘোড়া’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ফোনালাপে তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়— ‘তোকে কুপিয়ে চাক চাক করে কলিজা বের করে দেখব কত বড় হয়েছে।’ একই সাথে তাকে ওই দিনই গৌরীপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার পরদিন ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সহোদর ছোট ভাই এবং শুভ্র হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুদ পারভেজ কার্জনও মামুন আল-আমিনকে ফোন করে হুমকি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্জন ফোনে বলেন— ‘তোর একটা পা ধরে আরেকটা পা টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলবো।’
‘একাধিক হুমকির ঘটনায় মামুন আল-আমিন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ধারাবাহিক হুমকির কারণে ধানের শীষের পক্ষে তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মামুন আল-আমিন তার লিখিত অভিযোগে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণের ব্যক্তিগত সেল ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গৌরীপুরের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য সাধারণ ডায়েরি করে আদালতে পাঠানো হবে।’



