নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতেই সে আসনগুলোতে বিএনপি তাদের সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জাতীয় যুবশক্তির উদ্যোগে তরুণদের তেজোদীপ্ত লড়াই ও সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় যুব সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন তিনি।
ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘সরকারি দল খবরদারি করার জন্য বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে নারী আসনের মহিলাদের মনিটরিং করার দায়িত্ব দিয়েছে। তাহলে ওনাদেরকে মনিটরিং করবে কে? বাংলাদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা ওনাদের কাছে দেয়া হচ্ছে, ওনারা যে দুর্নীতি করছে না তার গ্যারান্টি কি? ওনাদেরকে (সরকারি দলকে) তো মনিটরিং করার দায়িত্ব দেয়া দরকার ছিল আমাদের (বিরোধীদের)। বরং উল্টাটা করা হচ্ছে। এটা আসলে বিরোধী দলকে বাধাগ্রস্ত করা। বিরোধী দল কোনোভাবে যেন ভালোভাবে ফাংশন করতে না পারে। সেটার চেষ্টা করছে তারা। আমার কাছে মনে হয় ওনারা বাধাগ্রস্ত করার নীতি হিসেবে এগুলাকে করতেছে। কিন্তু জনগণের দল বিরোধী দলের এগিয়ে চলাকে পিছিয়ে দিতে পারবে না।’
বাংলাদেশে ভারতের পুশইনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় খুব বেশি নজর দিতে পারছেন না। এটা দুঃখজনক এক সত্য। শুভেন্দু অধিকারী (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী) বলতেছে যে, পাঁচ হাজার লোক পুশইন করা হয়েছে বাংলাদেশে, ১০ হাজার লোক পুশইন করা হয়েছে। সেই লোকগুলো কোথায়? আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের বিজিবি কেন বলতেছে না আসলে সে সংখ্যা কত? এটা জাতির জন্য, দেশের জন্য খুবই একটা থ্রেটেন। সিকিউরিটি থ্রেটেন।’
জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকারীরা বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো নজর নেই দাবি করে ড. আতিক বলেন, ‘গতকালে দেখলাম চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বাসার মধ্যে। এটা কোন সমাজে বসবাস করছি? আইনশৃঙ্খলার এত অবনতি কেন? এবং যারা হত্যা মামলার আসামি, জুলাই অভ্যুত্থানে, তাদেরকে আমরা ঘুরে বেড়াতে দেখতেছি বিভিন্ন জায়গায়। আগের মতো বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই অর্থে আইনশৃঙ্খলাকে কোনোভাবেই সুখকর বলা যায় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন সেটা জনগণ টের পেয়েছেন। তাকে এসবের জবাব দিতে হবে।’
বরাদ্দে বিরোধীদলের সাথে যে বৈষম্য করা হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ আমলেও হয়নি- দাবি করে আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘সরকারদলীয় এমপি যেখানে পেয়েছেন ৮৫ লাখ, দুই কোটি টাকা, সেখানে টেন পার্সেন্টের ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হচ্ছে বিরোধী দলের এমপিদের। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটে নাই এবং আওয়ামী লীগের সময়েও কখনো এঘটনা ঘটে নাই। বরাদ্দের ক্ষেত্রে এটা তো সামষ্টিক একটা জিনিস। এটা তো কোনো দল- সরকারি দল বা বিরোধী দল, পকেটে নিচ্ছে না। একটা বৈষম্যমূলক আচরণ দেখছি, যা বাংলাদেশে আগে নাকি হয়নি।’
জেলা আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবু হাসান চঞ্চল, সদস্য সচিব মালেক, জেলা সদস্য সচিব আবু রেজা, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি। সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব মোরশেদ আলম।
সভায় রংপুর বিভাগ থেকে যুবশক্তির সংগঠকরা অংশ নেন। পরে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে একটি মিছিল বের করেন নেতারা।



