ইউরোপের দেশ পর্তুগাল ও মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পৃথক দুর্ঘটনায় সিলেটের তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় ওসমানীনগরের এক যুবক এবং সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করা সময় দুর্ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পর্তুগালে নিহত মো: শামসুল ইসলাম কামরান (২৫) ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মরহুম মুতলিব আলীর তৃতীয় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পর্তুগালের সেতুবাল জেলার আলমেদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন কামরান। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, চলতি বছর দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন কামরান। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর তিনি আবার কর্মস্থল পর্তুগালে ফিরে যান। এর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তার মৃত্যুর খবরে আলমেদাসহ পর্তুগালজুড়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যরা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অলাইয়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে নিহত হয়েছেন জয় আহমদ ও মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন।
নিহত জয় আহমদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পাড়ুয়া গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে ও মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন খাগাইল (দলাইরগাঁও) গ্রামের আব্দুল হাফিজের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বিকেলে ভবনের লিফট শ্যাফটে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিন প্রবাসীর লাশ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।


