হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে রায়হান চৌধুরী (৩০) নামে এক যুবককে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেয়া হয়নি। বরং আরো ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙুল কেটে দেয়া হয়েছে।
রোববার (৩ এপ্রিল) মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদি আবু তাহের চৌধুরী ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলে রায়হান চৌধুরীর সহপাঠি শামীম ও তার সহযোগী রাগিব ইতালিতে ফ্রি ভিসায় নেয়ার কথা বলে তাকে প্রলুব্ধ করেন। তাদের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার জন্য সম্মত হয়ে তাদেরকে পাসপোর্ট প্রদান করে। এর কয়েকদিন পর মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী হাসেনা বেগম, মেয়ে রিনু বেগম, শান্তা বেগম, রুবিনা বেগম তার বাড়িতে এসে বাদিকে জানায় যে তার ভিসা হয়েছে। তাদের কথা মতো গত ১২ সেপেম্বর ২০২৫ তারিখে বাদি তাদেরকে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর কিছুদিন পরে বাদির ছেলে রায়হান চৌধুরীর পাসপোর্ট দেয়ার সময় দালাল রাকিব এর বাড়িতে গিয়ে আরো নগদ দুই লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর মানব পাচার চক্রের সদস্যরা ভিকটিম রাযহান চৌধুরীকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব ও পরে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব মিলে রায়হান চৌধুরীকে ইতালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তারা রায়হান চৌধুরীর মা-বাবাসহ আত্বীয়-স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে কিংবা ইতালি যেতে চাইলে দেশে থাকা তাদের সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে আরো ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। তাই বাধ্য হয়ে ভিকটিমের বাবা জমি ও সোনা বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দেশে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে ও বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। তারা মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও ভিকটিমকে দেশে বা ইতালি পাঠায়নি।
এখন আবারো রায়হানকে মারপিট করে ভিডিও করে দেখিয়ে আরো ২৫ লাখ টাকা দাবি করলে তার বাবা নিরুপায় হয়ে থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকে ইতালিতে রায়হান চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদি আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। সে কোথায় কিভাবে আছে আল্লাহ ভালো জানেন। আমার ছেলে রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য ও জেলে হাজতে থাকা প্রধান আসামি নজুরুল ইসলামকে জামিনে নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোনায়েম মিয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছুদিন আগে মামলাটি করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে প্রেরণ করেছি। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবেন।’



