লক্ষ্মীপুরে টাকা চুরির অপবাদে ২ শিশুকে বেঁধে নির্যাতন, মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা

চুরির সন্দেহে মুজাহিদ ও জিহানকে ধরে ফেলেন মনির ও তার সহযোগীরা। এরপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন।

আ হ ম মোশতাকুর রহমান, লক্ষ্মীপুর

Location :

Lakshmipur
নির্যাতনের শিকার দুই শিশু
নির্যাতনের শিকার দুই শিশু |নয়া দিগন্ত

লক্ষ্মীপুরে ৮০০ টাকা চুরির অপবাদে দুই শিশুশিক্ষার্থীকে হাত বেঁধে মারধর এবং একজনকে মুখে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে শহরের দক্ষিণ তেমুহানী মার্কাজ মসজিদ এলাকায় এ বর্বর ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিশু হলো- সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার আবদুস সহিদের ছেলে মুজাহিদ হোসেন (৯) ও ভবানীগঞ্জের চরউভূতি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে জিহান হোসেন (১২)। মুজাহিদ স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং জিহান মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের দক্ষিণ এলাকার মার্কাজ মসজিদ এলাকায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান আছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দোকান থেকে ৮০০ টাকা চুরি হয়। এই চুরির সন্দেহে মুজাহিদ ও জিহানকে ধরে ফেলেন মনির ও তার সহযোগীরা। এরপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। ‘চোর ধরা পড়েছে’ বলে প্রচারণা চালিয়ে সবার সামনে দুই শিশুর হাত বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বড় শিশু জিহানের মুখে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন অভিযুক্ত মনির।

নির্যাতিত শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের পর তাদের খবর দেয়া হয়। শিশুদের ছাড়িয়ে নিতে চাইলে মনির হোসেন জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে আহত অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের দাবি, শিশুরা চুরির সাথে জড়িত নয়; কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাদের ওপর এই বর্বরতা চালানো হয়েছে। তারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে অভিযুক্ত দোকানি মনির হোসেন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার ক্যাশ থেকে ওরা ৮০০ টাকা চুরি করেছে এবং সেটা স্বীকারও করেছে। আমি শুধু একটা থাপ্পড় দিয়েছি, হাত বেঁধে মারধর বা সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়ার বিষয় আমি জানি না।’

চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা নিয়ে সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এক শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকার স্পষ্ট ক্ষত দেখা গেছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই। শিশুদের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।