উখিয়ায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও ছেলে নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন, আরেক ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছে; তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
রোহিঙ্গা ক্যাম্প
রোহিঙ্গা ক্যাম্প |ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী কপি নুর (৩০) ও ছেলে মোহাম্মদ আনছার (৬) নিহত হয়েছেন। এ সময় দম্পতির আরো এক ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কপি নুর এবং তার ছোট ছেলে মোহাম্মদ আনছার উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

গুরুতর আহত বড় ছেলে মোহাম্মদ সলিমকে (১০) প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবারের সাথে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পেছনে স্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছে ভোররাতে স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। মায়ের ওপর হামলার দৃশ্য দেখে ফেলায় দুই ছেলের ওপরও তিনি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই কপি নুর ও তার ছোট ছেলে মোহাম্মদ আনছারের মৃত্যু হয়। বড় ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মুহাম্মদ জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত মা ও শিশুর লাশ উদ্ধার করেন এবং আহত শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দু‘টি উদ্ধার করেন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু‘টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মা ও শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ দল পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।