নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়ায় সম্প্রতি বিচ্ছিন্ন জাগলারচরের দখল নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এতে এনসিপি, বিএনপি ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পদধারী অনেক নেতাকর্মীদের নাম মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন।
দুটি মামলার একটির বাদি আবুল বাসার। তিনি হলেন সামছু গ্রুপের প্রধান কোপা সামছুর ভাই। অপর মামলার বাদি প্রতিপক্ষের নিহত আলাউদ্দিনের বাবা মহিউদ্দিন।
আবুল বাসারের করা মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে চরকিং ইউনিয়নের মনির উদ্দিন মেম্বারকে। পদবী না থাকলেও তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। মামলায় ৩০ নম্বর আসামি মো: রাসেল সুখচর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ২৮ নম্বর আসামি ফিরোজ উদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
অপরদিকে মহিউদ্দিনের করা মামলায় ১৯ নম্বর আসামি হলেন নেয়ামত উল্যাহ নীরব। তিনি এনসিপির হাতিয়া উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক। ৩ নম্বর আসামি হলেন এনসিপির সুখচর ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন।
এছাড়া একই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সালাউদ্দিন, মো: ইউসুফ, আবুল কালাম আজাদ, মো: নুরউদ্দিন এনসিপির সক্রিয় সদস্য ছাড়াও ২১ জন আসামির মধ্যে অধিকাংশ এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
এই মামলার ১৬ নম্বর আসামি একরাম উদ্দিন চরকিং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। ১২ নম্বর আসামি সমির উদ্দিন হরণী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল আলম বলেন, ‘জাগলার চরের সংঘর্ষে নিহত শামছুর ভাই আবুল বাশার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয় আলাউদ্দিনের। দুই দিন পরে আলাউদ্দিনের বাবা থানায় এসে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলমান আছে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আলাউদ্দিন ও শামছু বাহিনীর মধ্যে জাগলারচর দখল ও দাগ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মারাত্মক আহত একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দুই দিন পর শামছুর লাশ উদ্ধার করা হয়।



