রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগে যোগ্যতা লঙ্ঘনের অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে রাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, উপ-রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হলেও এ এইচ এম আসলাম হোসেনের নিয়োগের সময় শর্তটি শিথিল করা হয়। একই সাথে একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

রাবি প্রতিনিধি

Location :

Rajshahi
রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগে যোগ্যতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে
রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগে যোগ্যতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তবে এ পদে নিয়োগ নিয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার প্রশ্ন তুলেছেন রাবির সাবেক প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন খান। যদিও রাবি প্রশাসনের দাবি, নিয়ম মেনেই তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। একই আদেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রাবি সূত্রে জানা যায়, এ এইচ এম আসলাম হোসেনের অনার্স ডিগ্রি নেই। তিনি ১৯৯২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।

তবে রাবির উপ-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও তার নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলে রাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, উপ-রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের ক্ষেত্রে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হলেও এ এইচ এম আসলাম হোসেনের নিয়োগের সময় শর্তটি শিথিল করা হয়। একই সাথে একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। এ নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক সুপারিশ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আমাকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনার্স না করলেও আমি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদও এ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি থাকাকালে তার যে ফাইল দেখে এসেছি, তাতে তিনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরো পিছিয়ে যাবে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার সুযোগ ছিল।

তবে রাবি ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেয়া হয়েছে, কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হবে, তখন নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এ নিয়োগে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’