গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বাবা ও ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। খালাতো বোনের সাথে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বড় ভাই।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সোহান (২৮) জানিয়েছেন, তিনি একাই তার ছোট ভাই সাকিবকে (১৮) গলাকেটে হত্যা করেন এবং পরে তার বাবাকে ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে উত্তর বনমালা এলাকার নিজ বাড়িতে সবাই যখন ঘুমে ছিলেন, তখন বড় ভাই সোহান তার ছোট ভাই সাকিবের ওপর হামলা চালান। সাকিবের পালানোর পথ বন্ধ করতে সোহান প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন। এরপর একাধিক আঘাতের মাধ্যমে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। বাড়িতেই নিভৃতে এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়।
বাবাকে হত্যার কৌশল
ছোট ভাইকে হত্যার সময় তার বাবা সোহেল রানা (৫০) বিষয়টি দেখে ফেললে সোহান তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোহান একজন সহযোগীকে ডেকে আনেন এবং তার বাবাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে দু’জন ব্যক্তি একজন দুর্বল মানুষকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে তাকে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয় এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মিথ্যা তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ
ঘটনার পরপরই এলাকায় প্রচার করা হয় যে, বাবা তার ছোট ছেলেকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে সোহানের সক্রিয় উপস্থিতি এবং তার বাবাকে জীবিত অবস্থায় ধরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়লে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। এছাড়া ঘটনার পর সোহান পালিয়ে না গিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে প্রযুক্তিগত তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ একটি ত্রিভুজ প্রেম। সোহানের সাথে তার এক খালাতো বোনের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ওই মেয়ের সাথে ছোট ভাই সাকিবের গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোহান বারবার সতর্ক করার পরও সাকিব সম্পর্ক বজায় রাখায় ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সোহান।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে বড় ভাই সোহান একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সে ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পর আইনি প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা হবে।



