সাদুল্লাপুরে কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, ‘আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য সাতটি গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

Location :

Gaibandha
প্রতীকী ছবি

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খামারিরা। প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় খাবার খাইয়ে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এরপরও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে লাভের আশা করছেন এখানকার খামারিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন চলছে গরু পরিচর্যার ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মালিক-শ্রমিকেরা গরুর গোসল-খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যস্ত আছেন। ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল, চিটাগুড়সহ দেশীয় উপায়ে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুকে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় পাঁচ হাজার ৭১০টি, বলদ ৬৪৫টি, গাভী দুই হাজার ৭২৬, ছাগল সাত হাজার ৩৯২টি, ভেড়া এক হাজার ৪৬১টি ও দুম্বা রয়েছে চারটি। এসব পশু অনলাইনসহ উপজেলার নলডাঙ্গা, ভাতগ্রাম, সাদুল্লাপুর, ইদ্রাকপুর ও ধাপেরহাটে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া সরাসরি খামার থেকেও গবাদি পশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

আর কয়েকদিন পরই হাট পুরোদমে জমে উঠবে বলে হাট ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে।

তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রত্যেকটি পশুর হাটে দালাল ও ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা লোকশানের শঙ্কায় ভুগছেন। হাটে আসা দালালরা মালিকদের সাথে রফাদফা করে পশু হাতে নেন। ওই দামের চেয়ে বেশি বিক্রিত টাকা দালালদের পকেটে ঢুকছে বলে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ। এ থেকে পরিত্রাণ চান তারা।

খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, ‘আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য সাতটি গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষে এ উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৩৪টি কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা ১৬ হাজার ৬৩টি। অবশিষ্ট পশু এলাকার বাইরে বিক্রিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।