ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার উঠান বৈঠকে বাধা প্রদান ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সোহাগপুর জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মাদরাসা মাঠে উঠান বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিল রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। কিন্তু এতে এলাকার বিএনপি জোটের খেজুরগাছ সমর্থকরা বাধা প্রদান দেয়। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। পরে রুমিন ফারহানা গাড়ি নিয়ে বৈঠকস্থলে এলে তারা তার গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে খেজুর গাছ প্রতীকের স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষুব্ধ খেজুরগাছ সমর্থকরা প্রায় এক ঘণ্টা রুমিন ফারহানার গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সরাইল চলে যান।
এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিদিন প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা চালালেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু আমি আমার সমর্থকদের সাথে দেখা করতে গেলেই রহস্যজনকভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। আমার কর্মীদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় সোহাগপুর গ্রামে আমার নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করতে গেলে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক আমার গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকে। এ সময় তারা খেজুর গাছ প্রতীকের স্লোগান দিতে থাকে এবং আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় খেজুর গাছ প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক জানান, তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এখানে সভা করার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চাইলে উত্তেজনা তৈরি হয়। আমরা কাউকে মারধর বা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করিনি।
এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানান, রুমিন ফারহানার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেয়া হয়নি। মাদরাসা একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক সভা করতে দেয়া হয়নি।



