রাউজান আসনে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি গিয়াস কাদেরের

তিনি দাবি করেন, ‘বাস্তবে আমাকে আনঅফিসিয়ালি কাজ চালিয়ে যাবার জন্য বলা হয়েছে, অফিসিয়ালি জানানো হবে ২০ জানুয়ারি।’

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন গিয়াস কাদের চৌধুরী
গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন গিয়াস কাদের চৌধুরী |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষিত প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (বহিষ্কৃত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি এ আসনে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ‘বাস্তবে আমাকে আনঅফিসিয়ালি কাজ চালিয়ে যাবার জন্য বলা হয়েছে, অফিসিয়ালি জানানো হবে ২০ জানুয়ারি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির টিকেটে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আই এম এক্সট্রিমলি কনফিডেন্ট, দল আমাকে অবজ্ঞা করবে না।’

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের গুডস হিলস্থ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ৫ আগস্টের পর রাউজানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। সমগ্র বাংলাদেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হলেও রাউজান আজও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ফ্যাসিবাদের দোসররা রাউজানে বিএনপির ছত্রছায়ায় আছে এবং শুধু বিএনপির ছত্রছায়ায় নয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায়ও আছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি ছত্রছায়ায় না থাকে, তাহলে কি তারা বিচরণ করতে পারে? অবাধে ঘুরাফেরা করতে পারে?

এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ নির্বাচন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও তার প্রত্যাশা।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের বাসায় যেহেতু সাংবাদিকদের দাওয়াত দিয়ে এনেছি হতাশ হয়ে নয়। দলের সবুজ সংকেত পেয়ে।’

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছিলেন বলেও তিনি জানান। বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু একদিকে অস্ত্র উদ্ধার হয়, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে।’

‘অবশ্যই সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে। কিন্তু তা তো পলিটিশিয়ানরা রোধ করতে পারবেন না। মানুষ খুন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওপারে চলে যাচ্ছে, এটা কিভাবে হয়? এখানে মারবা, অসুবিধা নেই আমার এখানে চলে এস- পরিস্থিতিটা এমনই,’ বলেন তিনি।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, রাউজানে শহীদ জিয়া, মরহুমা খালেদা জিয়ার অনুসারীদের ৯০ শতাংশকেই খুন করেছে ফ্যাসিস্ট অনুসারীরা। কতিপয় ব্যক্তি তাদেরকে (ফ্যাসিস্টদের) আশ্রয় দিয়েছে রাউজানে বসবাস করার জন্য। যারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাস করে তারা এই ফ্যাসিবাদকে আশ্রয় দিতে পারে না। এরা কারা? সীমান্তের ওপারে বসে, দেশের নানা প্রান্তে বসে আমার দলের নেতাদের সাথে কনফারেন্স লাইনে লাইন লাগিয়ে দেয় এবং বলে- এরা আপনার সাথে থাকবে, আপনার সাথে কাজ করবে, টাকা দিয়ে, পয়সা দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে সবকিছু দিয়ে আমরা আপনার সাথে থাকবে। এই কথাগুলো তো আমাদের কানেও চলে আসে।’

তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো ফ্যাসিবাদের হাতে প্রচুর টাকা। এই টাকার অসৎ ব্যবহার রাউজানে করছে। কতিপয় নেতাদের মাধ্যমে এই টাকার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টা আগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এ ধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে রাউজানে। এর জন্য আমি শুধু ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের দায়ী করব না। প্রশাসনের ভিতরেও ঘাপটি মারা ফ্যাসিবাদী দোসররা আছে।’

কারা কারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদের নাম বলে দিতে পারব এমন দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, আসনটিতে বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনিও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষিত প্রার্থী।