ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীর দেউড়ি মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
পরে নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে অবস্থান নিয়ে ‘তুমি কে, আমি কে/হাদি, হাদি’ স্লোগানসহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন মিছিলে অংশগ্রহনণকারীরা। তাদের হাতে ছিল ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সাবেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব, তৌসিফ ইমরোজ, আরমান শাহরিয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে ইবনে হোসেন জিয়াদ বলেন, ‘হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ইন্টেরিম (অন্তবর্তীকালীন সরকার) টালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। হাদি হত্যার বিচার না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ইন্টেরিমকে অপসারণে আন্দোলন করা হবে।’
হাদি হত্যার ঘটনায় তাড়াহুড়া করে ভুল অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে একটা চার্জশিট দেয়া হয়েছে। সেখানে ভুল তথ্য দিয়েছে। চার্জশিটের ভুলগুলো আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের ভাইয়েরা তুলে ধরেছেন। মূল আসামিদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। না হয় আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন এক সংগ্রামী কণ্ঠ। তাকে নির্মমভাবে প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর হত্যা করলেও আজও বিচার না হওয়ায় দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ।’
অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে এবং এই দাবি আদায় করে নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।



