সোনাতলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

বিয়ের পর বছর খানেক ভালোই কাটে তাদের। এরপর থেকে অর্জুন পাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আরো যৌতুকের দাবিতে সীমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার রাতে এসব নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সীমাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

Location :

Bogura
নিহত গৃহবধূ সীমা রানী, (ডানে) লাশ নিয়ে স্বজনদের বিক্ষোভ
নিহত গৃহবধূ সীমা রানী, (ডানে) লাশ নিয়ে স্বজনদের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার গাবতলীতে যৌতুক না পেয়ে সীমা রানী (২৩) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঘরের ফ্যানের সাথে কাপড় দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এর আগে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। এমনকি পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তারা সোনাতলা-গাবতলী সড়ক অবরোধ করে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত তিন-চার বছর আগে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের চরপাড়া মাঝিপাড়া গ্রামের নিশি প্রামানিকের মেয়ে সীমা রানীর বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মহিষাবান গ্রামের দেবেন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে অর্জুন চন্দ্র পালের (৩২)।

স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর বছর খানেক ভালোই কাটে তাদের। এরপর থেকে অর্জুন পাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আরো যৌতুকের দাবিতে সীমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার রাতে এসব নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সীমাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে শোবার ঘরে ফ্যানের সাথে কাপড় দিয়ে লাশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সীমা মারা গেলেও বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ফেসবুকে দেখে সীমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর গাবতলীতে জামাই বাড়ি গিয়ে বারান্দার মেঝেতে লাশ দেখতে পান।

শনিবার সকালে গাবতলী থানা পুলিশ সেখান থেকে সীমার লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা লাশ গ্রামে এনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সীমার স্বামী অর্জুন চন্দ্র পাল ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

সীমার স্বজনরা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে গাবতলী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

এ বিষয়ে গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।