চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রের সাথে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন ইউএনও তিথি মিত্র। সেখানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন।
এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শুরুর পরপরই মূল ব্যানারের আকার ছোট হওয়া এবং তাতে দুই সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না থাকার বিষয়টি নজরে এলে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর জের ধরেই সেখানে ইউএনওর সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।
এসব উত্তেজনার মাঝেই অনুষ্ঠানে এডিপি প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে মোট ৬৭টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯৫টি ফুটবল, ৪০ সেট জার্সি এবং ৪০টি ঢেউটিন হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র দাবি করেন, এই ভুলের দায় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের।
তিনি বলেন, ‘এডিপির কাজগুলো সাধারণত ইঞ্জিনিয়াররা করে থাকেন। সে কারণে ব্যানারটা তৈরি করার দায়িত্ব উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে (এলজিইডি) দেয়া হয়েছিল। দুপুরে ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞেসও করেছিলাম ব্যানারটা প্রস্তুত কি না, তিনি তখন বলেছিলেন প্রস্তুত। তখন কোনো সংশয় থাকলে তিনি আমাকে বলতে পারতেন বা ব্যানারটা দেখাতে পারতেন। এখানেই সমস্যাটি হয়েছে।’
ইউএনও আরো জানান, অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ৫ মিনিট আগে তিনি জানতে পারেন ব্যানারটি ছোট হয়েছে। এরপর এমপিরা অনুষ্ঠানস্থলে এলে তিনি ব্যানারটি পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তারা তাতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদী আমলে তিথি মিত্র জেলার জীবননগরে এসিল্যান্ড থাকার সময় তৎকালীন বিনা ভোটের এমপি আলী আজগার টগরের খুব ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকেই আবার চুয়াডাঙ্গা সদরে ইউএনও হিসেবে পদায়ন করায় প্রশ্ন উঠেছিল, এটা পরিকল্পিত কি না।



