চাঁদপুরে হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রোগীরা

হাসপাতালের ৩১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট রিফিল করা হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত।

Location :

Chandpur
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |নয়া দিগন্ত

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ৩১টি যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হলেও তা অপসারণ বা নবায়নের উদ্যোগ না নেয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন রোগীরা।

জানা গেছে, হাসপাতালের ৩১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট রিফিল করা হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সেটি একই অবস্থায় ঝুলতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা ঘটলে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালের কয়েকজন রোগী বলেন, একটি হাসপাতালে নিরাপত্তাব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কার্যকর থাকা জরুরি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, শুধু যন্ত্র থাকলেই হয় না, এর ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণাও থাকা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করলে তা উল্টো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এটি অপসারণ করে নতুন যন্ত্র স্থাপন করা উচিত।’

মতলব উত্তর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর নুরুল করিম বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। বছরে কমপক্ষে একবার রিফিল এবং তিন মাস পরপর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যন্ত্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাজন কুমার বলেন, ‘আমি এখানে অল্প কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি, বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

খোঁজ-খবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।