যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ সুদানের আবেই শহরে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক রাজবাড়ীর সন্তান শামীম রেজার (৩২) লাশ গ্রামের বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, বেলা ২টার দিকে সেনাবাহিনীর লাশবাহী হেলিকপ্টার কালুখালী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে শামীম রেজার লাশবাহী কফিন গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়। কফিন বাড়িতে আনার পর শোকের মাতম সৃষ্টি হয়। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মাসহ স্বজনরা।
পরে তার লাশ পার্শ্ববর্তী পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শামীম রেজার লাশের ওপর পুষ্পমাল্য অর্পণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষ করে দাফন করা হয়।
নিহত সৈনিক শামীম রেজা রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামের আলমগীর ফকিরের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শামীম রেজা ছিলেন সবার বড়। শামীম ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান। তার এই মৃত্যুতে তার বাবা-মা ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বাবা মো: আলমগীর ফকির স্থানীয় সমজিদের একজন খাদেম। শামীম গত দেড় বছর আগে বিয়ে করেন। কিন্তু তার কোনো সন্তান ছিল না। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেন।
এলাকাবাসি ও তার আত্মীয় স্বজনেরা বলেন, শামীম রেজা এলাকার একজন ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকার মানুষের সাথে তার নিবির সখ্যতা ছিল। সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি করে আসছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী।
নিহত শামীম রেজার ভাই সোহেল ফকির জানান, তাদের পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বড় ভাই শামীম রেজা। তার মৃত্যুতে পারিবারিক ভাবে ভেঙে পরেছেন তারা। সরকারের কাছে তারা সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশী সৈনিক নিহত হন এবং আটজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর সন্তান সৈনিক মো: শামীম রেজা (২৮) ছিলেন।



