বিদেশে-বিভূঁইয়ে স্বজনহীন বাংলাদেশী প্রবাসীরা বিভিন্ন পরিস্থিতে অবসাদে ভোগেন। পারিবারিক সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি চাকরি, বেতন, ভিসা পারমিট নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ দৈনন্দিন প্রবাসের মাটিতে নতুন নতুন জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের। ফলে হীনমন্যতাসহ মানসিক চাপের মধ্যে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন তারা।
এসব মানসিক অবসাদ থেকে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করছে তারা।
কুয়ালালামাপুরের ব্রিকফিল্ড মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক উৎসাহে খেলছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে তরুণ মনের প্রবাসীরা বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম ভাড়া করে রাত ৮টার পরে গভীর রাত পর্যন্ত খেলাধুলা, গল্প, আড্ডায় মগ্ন থাকেন। কুয়ালালামপুর শহরে শত শত আউটডোর ও ইনডোর স্টেডিয়াম রয়েছে যা ঘণ্টা ও দিন এবং রাত হিসাবে ভাড়া নেয়া যায়।
স্টেডিয়ামের ধরন অনুযায়ী ঘণ্টা পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার এবং সারাদিন বা রাত ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া করা যায়। বড় বড় টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থায়নের প্রয়োজন পড়ে। তখন বিভিন্ন কোম্পানি স্পন্সর করে থাকে।
তবে প্রবাসীরা সারাদিন কাজ করে রাতে খেলাধুলা করেন। মালয়েশিয়া প্রবাসীদের খেলাধূলা গণমাধ্যম প্রচারিত হওয়ার পর চারপাশে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ব্যাপকহারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের শরীর ও মন ফিট রাখতে এবং মদক থেকে দূরে থাকতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় মালয়েশিয়ায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। বেড়েছে আত্মহত্যার মতো জঘন্যতম কর্মকাণ্ড।
এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার মিনিস্টার মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসী কর্মীদের খেলাধুলার ব্যপারে দূতাবাস সব সময় সাপোর্ট করে যাবে।’



