বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরনো দিনের ভুত আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, ‘একসময় দেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও গুণ্ডামির ভুত এবং লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ভুত ছিল, এখন সেই চক্র আবার ক্ষমতায় ফেরার পাঁয়তারা করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত পরিশ্রমে অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না।’
তিনি একটি উপমা টেনে বলেন, ‘পাঁচ ভাই-বোন সারাদিন পরিশ্রম করে যা আয় করে, রাতের অন্ধকারে একজন সব লুট করে নেয়, তাহলে সেই সংসারে কখনো সাচ্ছন্দ্য আসতে পারে না। আজ বাংলাদেশে একই অবস্থা।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ডুমুরিয়া উপজেলা আয়োজিত খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল কাইউম জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, ডাকসুর নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, খুলনা জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখতার হোসাইন, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা: হরিদাস মন্ডল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. একরাম উদ্দিন সুমন, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন, হিন্দু কমিটির উপজেলা সেক্রেটারি দেব প্রসাদ মন্ডল, ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি ডা: নিত্যরঞ্জন রায়, খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রমুখ।
মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন হয়নি।’ তার ভাষায়, ‘আগে বিদেশী শাসকরা এদেশের সম্পদ লুটে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত, এখন দেশীয় শাসকরা সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বছরে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আর দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।’ এ প্রেক্ষাপটে ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চান তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেয়ার আহ্বান জানান এবং খুলনার পাঁচটি আসনে ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
মামুনুল হক তার বক্তব্যে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’ তার ভাষায়, ‘শাসকের চেহারা, ধর্ম, জাত বদলেছে; কিন্তু শোষণের চরিত্র বদলায়নি।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং দেশে খুন-গুমের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে সংঘটিত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে। হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে একটি ন্যায্য অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আশায়।
১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।’ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের অবসান ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সকালে বাদামতলা চক্ষু হাসপাতাল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চক্ষু হাসপাতাল খুলনার চেয়ারম্যান মুন্সি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের ইউরোপীয় মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবুকর মোল্লা। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গাউসুল আযম হাদী, খানজাহান আলী থানা আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, থানা সেক্রেটারি গাজী মরশেদ মামুন প্রমুখ।



