ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি ইটভাটায় অগ্রিম অর্থ দিয়ে ক্রয় করা ইট বুঝে না পেয়ে অর্ধশতাধিক গ্রাহক মানববন্ধন করেছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের প্রাপ্য ইট বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানান। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার ২নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর গ্রামের এমজিএম (বর্তমানে ফাইজা ব্রিক্স) ইটভাটায় প্রায় ৬০ জন গ্রাহক বিভিন্ন সময়ে অগ্রিম প্রায় ৪২ লাখ টাকার ইট ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের ইট পাননি।
গ্রাহক মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়ে ২ লাখ ইট ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৮১ হাজার ইট পেলেও বাকি ইট এখনো বুঝে পাননি। একইভাবে আব্দুস সাত্তার ২০২২ সালের ২১ মার্চ ৪৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে আংশিক ইট পেলেও অবশিষ্ট ইট পাননি।
পৌর শহরের মধু সরকার অভিযোগ করেন, তিনি ৪৫ হাজার ইট ক্রয় করেছিলেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ইট পেয়েছেন। পরবর্তীতে ইট চাইতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ইটভাটায় একসময় প্রায় ৭ লাখ ইট মজুদ থাকলেও সেগুলো তাদের না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মো: ফারুকুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে বর্তমান মালিকপক্ষের প্রতিনিধি খায়ের উদ্দিন রতন বলেন, ‘বর্তমান মালিকরা পূর্বের কোনো লেনদেনের সাথে জড়িত নন। এ বিষয়ে অতীতেও ইউএনও কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে।’
ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আলী আকবর আনিছ বলেন, ‘বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম, মধু সরকার, হুমায়ুন কবীর, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল গণি, আবুল কাসেম, আবু সাঈদ, হারুন মিয়া ও মোজাম্মেল হকসহ ভুক্তভোগীরা। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



