তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

পরিবর্তন, সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন চাইলে হ্যাঁ-তে সিল দিবেন

‘হ্যাঁ-তে ভোট দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাধ্যতামূলক হবে। হ্যাঁ-তে ভোট দিলে সংবিধান ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনে নিজের লোক বসাতে পারবে না। হ্যাঁ-তে ভোট দিলে সকল ধর্মের মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, বিচার বিভাগের পরিবর্তন হবে, নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে। এছাড়া দলীয় প্রশাসন থাকবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকবে।’

নীলফামারী প্রতিনিধি

Location :

Nilphamari
গণভোটের প্রচারণায় নীলফামারীতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
গণভোটের প্রচারণায় নীলফামারীতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান |নয়া দিগন্ত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘পরিবর্তন আনতে হলে একই মানুষ, একই শাসনব্যবস্থা, একই আইন-কানুন রেখে পরিবর্তন আসবে না। পরিবর্তনটা কী প্রক্রিয়ায় আনা যায় সেজন্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন করেছে। এর মধ্য থেকে ছয়টা সংস্কার কমিশন যারা সরাসরি ভোটের সাথে জড়িত, ক্ষমতার ভারসাম্যের সাথে জড়িত, জবাবদিহিতার সাথে জড়িত ‘

তিনি বলেন, ‘তাদের যে সুপারিশগুলো ছিল সেই সুপারিশগুলো নিয়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে ১২টা বিষয় নিয়ে চারটি প্রশ্ন গোলাপী কাগজে ভোটারকে দেয়া হবে। যদি পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন, যদি সংস্কারের পক্ষে থাকেন, যদি জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন চান, জবাবদিহিতামূলক রাজনীতিবিদের নৈতিক নেতৃত্ব চান তাহলে আপনারা হ্যাঁ-তে অবশ্যই সিল দিবেন।’

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে সব জায়গায় এমনভাবে লোক বসানো হয়েছিল যেন সাধারণ মানুষরা ভোট দিতে না পারে। যেন নির্বাচন কমিশন রাতের ভোটের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে না পারে। প্রশাসনের সবখানে ছিল তারা ও তাদের মামুরা। নিরপেক্ষতার কোন সুযোগ ছিল না। এজন্য সংস্কার প্রয়োজন। এ ধরনের প্রশাসনের হাত থেকে যদি মুক্তি চান তাহলে আমাদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ভোট দিতে না পারি, সেজন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হবে, সঙ্ঘাত সৃস্টি করা হবে। এতে কোনো লাভ হবে না। ভোটের সকল প্রস্তুতি শেষ। যত বাধা আসুক না কেন, সরকারের প্রস্তুত আছে। সকল বাধা মোকাবেলা করে নির্ধারিত সময়েই ভোট হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ-তে ভোট দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাধ্যতামূলক হবে। হ্যাঁ-তে ভোট দিলে সংবিধান ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনে নিজের লোক বসাতে পারবে না। হ্যাঁ-তে ভোট দিলে সকল ধর্মের মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, বিচার বিভাগের পরিবর্তন হবে, নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে। এছাড়া দলীয় প্রশাসন থাকবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকবে।’

শহীদ ওসমান হাদি সম্পর্ক তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘হাদির মৃত্যু গোটা দেশকে স্তম্ভ করছে। তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, সে কতোটা জনপ্রিয় ছিল। হাদিকে ভালোবাসত বলেই এতো মানুষ তার জানাজায় অংশ নিয়েছে। বর্তমান সরকার হাদির হত্যার বিচার করতে অঙ্গিকারবদ্ধ। আমরা চার্জশিট জমা দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।’

নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো: আবু জাফর।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন অফিসার মো: লুৎফুল কবির সরকার ও নীলফামারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর।

মতবিনিময় সভার আগে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে উপদেষ্টার নেতৃত্বে গণভোট প্রচারে জেলা শহরে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেখানে বেলুন উড়িয়ে শোভযাত্রাটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মতবিনিময় সভার স্থান জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়া এসে শেষ হয়।