এলজিইডির মার্কিং ঘিরে প্রশ্ন

সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাঝেই উল্লাপাড়ায় গাছ কাটার হিড়িক

সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মো: জাকিরুল হাসান, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Ullahpara
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাঝেই উল্লাপাড়ায় গাছ কাটার হিড়িক
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাঝেই উল্লাপাড়ায় গাছ কাটার হিড়িক |নয়া দিগন্ত

সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উপজেলার পাচলিয়া–বড়হর আঞ্চলিক সড়কের বাদুল্লাপুর থেকে অলিপুর পর্যন্ত অংশে সড়কের দুই পাশের প্রায় এক হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে উল্লাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ওই সড়কের পাশের গাছগুলো নাম্বারিংয়ের অংশ হিসেবে ছাল কেটে মার্কিংয়ের কাজ শুরু করে। তবে গাছে নম্বর দেয়ার আগেই অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা গাছের ছাল কেটেছেন তারা অনেককে বলেছেন, ‘ছাল কেটে গেলাম, নম্বর দেওয়ার আগেই গাছ সরিয়ে নিতে হবে।’ এমন কথা শোনার পর অনেকেই নিজেদের দাবি করা গাছ কেটে সরিয়ে নেন।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, সড়কের পাশের যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই তাদের নিজস্ব জমিতে লাগানো ছিল। তাই তারা নিজেদের গাছ নিজেরাই কেটেছেন। তাদের ভাষ্য, এলজিইডির লোকজন মৌখিকভাবে গাছ কেটে সরিয়ে নেয়ার কথাও বলেছিলেন।

এদিকে এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাচলিয়া–বড়হর আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সড়কের দুই পাশের গাছগুলো মার্কিং করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পরই গাছ অপসারণের কথা। এর আগে কোনো ব্যক্তির গাছ কাটার অনুমতি নেই।

তবে স্থানীয়দের এমন দাবিকে অস্বীকার করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো: শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে কাউকে গাছ কাটতে বলা হয়নি। গাছগুলো নিলামে বিক্রির জন্য মার্কিং করা হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’