কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
‘জান দেবো, তবুও ঘনবসতি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেবো না’—এমন স্লোগানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মেসার্স আলী ওয়ার্কশপের ৩৩ হাজার ভোল্টের (হাইভোল্টেজ) বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ইসলাম আহমদের বাড়ি মহল্লার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স আলী ওয়ার্কশপের মালিক মোহাম্মদ আরমানের উদ্যোগে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন না করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হলে যেকোনো দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, আমির আহমদ, বদিউল আলম, নুর মোহাম্মদ, জাকির আহমদ, শাহাদাত হোসাইন, ফয়েজ আহমদ, সোবহান, বুলবুল, পেয়ার আহমদ, বাহাদুর খান, সাহেদ, আবদুল মালেক, জাহিদুর ইসলামসহ স্থানীয়রা।
মহল্লার সহ-সভাপতি আমির আহমেদ বলেন, ‘এখানে যে কারখানা হবে, তার পাশের যে কারখানাটি রয়েছে, তাদের সাথে সমঝোতা করে বিকল্প পথে সেখান থেকে খুব সহজেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যেতে পারে। আমাদের মহল্লায় ঘনবসতি। এর ওপর ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা মহল্লাবাসী এর প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বসতবাড়িতে তল্লাশির নামে কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আমিন নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন।’
মহল্লার আরেক সহ-সভাপতি বদিউল আলম সওদাগর বলেন, ‘বিপিডিবির বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসে মহল্লাবাসীর সাথে কথা বলেছেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, বসতবাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মহল্লাবাসী স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে রাজি না হলে তারা সংযোগ দিতে পারবেন না। এ সময় এসআই রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রয়োজনে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব। দেখি কে বাধা দেয়।’
মহল্লার আরেক বাসিন্দা সাহাদাত হোসাইন অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সাথে যোগসাজশ করে মেসার্স আলী ওয়ার্কশপে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রকাশ্যে পুলিশের সাথে মিলে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে কর্ণফুলী থানার এসআই নুরুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। তবে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রেখে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে—এ ধরনের কোনো কথা আমি বলিনি। মহল্লাবাসী এ বিষয়ে মিথ্যা কথা বলছেন।’
মেসার্স আলী ওয়ার্কশপের মালিক মোহাম্মদ আরমান বলেন, ‘আমি কর্ণফুলী নদীর পাড়ে আমার ওয়ার্কশপের জন্য ফোর-ফোরটি (৪৪ কেভি) বিদ্যুৎ লাইন নিতে চাইলে মহল্লাবাসী হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে বাধা দেন। মহল্লাবাসী যে ঝুঁকির কথা বলছেন, এটি তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী স্থানটি পরিদর্শন করে বলেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাবে।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখেছি। বিদ্যুৎ বিভাগকে বলে দেয়া হয়েছে। তারা যদি মনে করে এটি এলাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তাহলে লাইন নির্মাণ করবে। আর ঝুঁকিপূর্ণ হলে করবে না।’
কর্ণফুলী বিদ্যুৎ অফিসে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।



