কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সার সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ডিলারদের মাধ্যমে একযোগে সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে বিভিন্ন গুদামে শত শত কৃষক ও উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমন ধানের চাষাবাদে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই কৃষকরা ডিলারদের গুদামের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কৃষক একসাথে সার নিতে উপস্থিত হওয়ায় গুদাম এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক কৃষক সারিবদ্ধভাবে না দাঁড়িয়ে দ্রুত সার নেয়ার চেষ্টা করলে ডিলারের লোকজনের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
সার বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় একপর্যায়ে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি গুদামের শাটার ভাঙার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হলে কৃষকদের সিরিয়াল অনুযায়ী সার বিতরণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কাউসার আলী বলেন, ‘সারের গুদামগুলোতে একযোগে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হওয়ায় এবং নিয়ম মেনে লাইনে না দাঁড়িয়ে এলোমেলোভাবে সার নেয়ার চেষ্টা করায় ডিলারের লোকজন ও কৃষকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সিরিয়াল অনুযায়ী সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এদিকে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্কের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘রৌমারীতে কোনো সার সঙ্কট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ম মেনে সার বিতরণ করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহাবুবুল হাসান বলেন, ‘আমন মৌসুমে একসাথে বিপুলসংখ্যক কৃষক সার সংগ্রহ করতে আসায় গুদামগুলোতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে।’
কৃষকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে সার সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।



