ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৩টি উপজেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার মোট এক হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিন হাজার ২১৭ জন পুলিশ সদস্য।
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া ছাড়া বাকি ১১টি উপজেলায় প্রতিটিতে ১২০ থেকে ১৪০ জন করে সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ায় দায়িত্ব পালন করছে ১২ প্লাটুন বিজিবি। অন্য উপজেলাগুলোয় চার প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য টহল কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পুলিশের নেতৃত্বে ১৪ থেকে ১৭ জন করে গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার ব্যাটালিয়নের ৩১টি ও র্যাবের ২১টি টিম মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে ৭৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান জানান, বুধবার সকাল থেকেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কলমসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে নগরীর বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
তিনি জানান, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করতে র্যাবের ৬০০ সদস্য মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।



