ভিজিএফ তালিকা বিতরণে অনিয়ম, উলিপুরে চেয়ারম্যানের উপর হামলা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Ulipur
ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক আহত
ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক আহত |নয়া দিগন্ত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত চেয়ারম্যানকে পরিবারের লোকজন দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তুলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্যমতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর-২৬ উপলক্ষে ১৩টি ইউনিয়নের ৮৩,৩৭০ জন দুঃস্থ ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ধরনীবাড়ি ইউনিয়নে ৬,৮০০ জন এই সুবিধা পাবেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তালিকা তৈরি করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক দল ও সমাজসেবী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দুপুরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্রদের তালিকা যাচাই করা হবার কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান সকালেই তার পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইডি কার্ডের ফটোকপি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করেন। পরে দুপুরে ইউপি সদস্য ও সাধারণ মানুষ জানতে পারেন তালিকা আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায় সাধারণ জনগণ ও ইউপি সদস্যদের সাথে চেয়ারম্যানের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী জানান, ‘সব মিলিয়ে দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে আগে থেকেই তালিকা তৈরি করেছেন। বঞ্চিত মানুষরা উত্তেজিত হয়ে অনিয়মের বিষয়ে জানতে গেলে হাতাহাতি হয়েছে।’

চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ওবায়দুল হক বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে স্বচ্ছ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়ার কারণে হামলার শিকার হয়েছেন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা সত্য। ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থা জানিয়ে আমার দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন।’