চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে শুধুমাত্র মহিষ ও ভেড়ার জন্য একটি হাট বসানো হয়েছে। এখানে মহিষ, ভেড়া ছাড়া অন্য পশু তোলা হয় না। উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের আলীরপোল হাটে এ বাজার বসেছে। মিরসরাই ছাড়াও পাশ্ববর্তি উপজেলার লোকজন এখান থেকে মহিষ ও ভেড়া কেনার জন্য আসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি বিশাল সবুজ ঘাসে মোড়ানো চরাঞ্চল। চাষাবাদের পাশাপাশি এ চরে পালন করা হয় বিভিন্ন ধরনের গবাদিপশু। চর এবং সমুদ্র উপকূলের খোলা এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে অসংখ্য মহিষ ও ভেড়া। আর সে পশু নিয়ে উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা এলাকায় হাট বসে।
জানা গেছে, কোরবানিতে মহিষ ও ভেড়ার বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলীরপোল এলাকায় বসানো হয় এ হাট। যেখানে ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের মহিষ পাওয়া যাচ্ছে। মূলত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করায় এ এলাকার মহিষের চাহিদা পুরো চট্টগ্রামজুড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের এ এলাকা থেকে অসংখ্য মহিষ ও ভেড়া বিক্রি হয়। কিন্তু হাট না থাকায় যেমন বিক্রিতে সমস্যা হয়, ক্রেতারাও বাড়তি ঝামেলায় পড়েন। তাই এবার আমরা হাটের ব্যবস্থা করেছি। এখানে ৮০ হাজার থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকার মধ্যে মহিষ পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘খোলা চরে মহিষ-ভেড়াগুলো বছরের পর বছর চষে বেড়ায়। চাষীরা কৃষিকাজের পাশাপাশি এসব মহিষ পালন করেন। তাই এসব মহিষের গোশত বেশ সুস্বাদু হয়।’
ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার ভেড়া খামারি সৈয়দুল হক বলেন, ‘একটি ভেড়া ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকাও বিক্রি করি। আমার কাছে ৩০০টি ভেড়া রয়েছে। একটা সময় ৫০০ ভেড়া ছিল। বিক্রি করে দিয়েছি, আবার কিছু ভেড়া মারা গেছে। বিক্রি করার জন্য অনেকগুলো ভেড়া আলীরপোল বাজারে নিয়ে আসছি।’
স্থানীয় রবিউল হোসেন দুলাল বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের মহিষ-ভেড়া নিয়ে এ হাটের আয়োজন করেছি। এখান থেকে যে কেউ চাইলে চাহিদা মতো মহিষ কিনতে পারবেন। আগে মানুষের কষ্ট হতো, এখন বাজারে এসে পছন্দ মতো পশু ক্রয় করতে পারবেন।’
আলীরপোল হাটে মহিষ কিনতে আসা খৈয়াছরা এলাকার মাহতাব উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে মহিষ কোরবানি দিয়ে আসছি। আগে খুঁজে খুঁজে মহিষ কিনতে হতো। এবার বাজার বসায় ঝামেলা হয়নি। এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মহিষ কিনেছি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর গোশতের চেয়ে মহিষের গোশতে ঝুঁকি কম। মহিষ ও ভেড়ার গোশত খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয় না, মাথা ঘোরে না, শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতাও দেখা দেয় না। তাই মানুষের কাছে আগের চেয়ে মহিষ এবং ভেড়ার গোশতের চাহিদা বেড়েছে।
মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ বলেন, ‘উপজেলায় এবার কোরবানিতে প্রায় ৫৩ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে তিন হাজার ২৭৮টি মহিষ ও তিন হাজার ৪৬৯টি ভেড়ার চাহিদা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুনেছি আলীরপোল এলাকায় শুধুমাত্র মহিষ ও ভেড়ার বাজার বসে থাকে। আগে মহিষ, ভেড়া তেমন বাজারে তোলা হতো না। ক্রেতারা খামার থেকে ক্রয় করতো। গত কয়েক বছর মহিষ ও ভেড়ার হাট বসায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য সুবিধা হয়েছে।’



