চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির গায়েবানা জানা অনুষ্ঠানে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পরে অবশ্য ইউএনও মংচিংনু মারমা দু:খ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এ ঘটনা জানা জানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউএনও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি তুলেন অনেকেই। আবার অনেককে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোসলেম উদ্দিন লেখেন, ‘রাষ্ট্রীয় ঘোষণা সত্বেও সন্দ্বীপে উপজেলা মাঠে শহীদ ওসমান হাদির জানাযা পড়তে না দেয়ার অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আমি নাগরিক সমাজের পক্ষ হতে ডিসি ও ইউএনও অফিসে কথা বলেছি। ইউএনও সাহেব এ ঘটনায় সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।’
সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ এমদাদ নামের যুদ্ধাহত এক জুলাইযোদ্ধা লেখেন, ‘সারা বাংলাদেশে আজ বীর শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা মাঠে সাধারণ মানুষকে এই জানাজা পড়তে দেয়া হয়নি। শোনা যাচ্ছে, সন্দ্বীপ উপজেলা ----------- প্রভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই জানাজার অনুমতি দেননি।
জনাব ইউএনও, আপনার কাছে আমার প্রশ্ন-রাজনৈতিক সমাবেশ আর জানাজা কি একই জিনিস? যতটুকু জানতে পেরেছি, আপনি নাকি ‘ওপরের’ নির্দেশে আজ জানাজার নামাজ পড়তে দেননি! আর আমাদের বুঝতে বাকি নেই যে, আপনার এই তথাকথিত ‘উপর’ আসলে সন্দ্বীপ -------।
---- সাহেব, জনগণের জানাজায় বাধা দেয়ার এই দুঃসাহস আপনি কোথায় পান? কোন ক্ষমতাবলে আপনি প্রশাসনকে একজন শহীদের জানাজা বন্ধের নির্দেশ দেন? আমরা কি এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছিলাম?
ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল আপনাদের সাথে দেখা হবে। একজন যুদ্ধাহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের মুখোমুখি হয়ে আমি জানতে চাই-এই ‘উপর’ আসলে কতদূর? আপনাদের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। বীর শহীদের জানাজায় বাধা দিয়ে আপনারা যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তার জবাব না নিয়ে ফিরব না।’
ফেসবুক পোস্টে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লেখেন- ‘আজ বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
আমি আন্তরিকভাবে বুঝি-শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের সচেতন ছাত্র-জনতার কাছে শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি চেতনা, একটি প্রতিবাদের নাম। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেকের মনে যে কষ্ট ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা মানবিকভাবেই স্বাভাবিক।
উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজনটি করার বিষয়ে অনুরোধ জানাতে গিয়ে আমি যে সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হয়েছি, তা কোনোভাবেই শহীদের প্রতি অসম্মান বা জনতার আবেগকে অবমূল্যায়ন করার জন্য নয়। পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন একই মাঠে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ ব্যতিক্রম হলে আইনশৃঙ্খলা ও সমতার প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হতে পারত-এই প্রশাসনিক বাস্তবতা থেকেই উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠের পরিবর্তে উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করার অনুরোধ করা হয়েছে।
তবুও, এই সিদ্ধান্তে যদি কারো মনে আঘাত লেগে থাকে বা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রাখাই ছিল আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।’



