দোয়ারাবাজারে মারধর করে মিথ্যা মামলা ও ফসল লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৭০ বছরের বৃদ্ধার নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, জমির থেকে ফসল লুট ও মারধরের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Dowarabazar
দোয়ারাবাজারে মারধর করে মিথ্যা মামলা ও ফসল লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন
দোয়ারাবাজারে মারধর করে মিথ্যা মামলা ও ফসল লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৭০ বছরের বৃদ্ধার নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, জমির থেকে ফসল লুট ও মারধরের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন পুনরায় আনছর আলীর মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও ৫–৬ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফসল চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেয়ার জেরে মো: আনছর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। এছাড়া বৃদ্ধের জমি থেকে ফসল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এসব আনছর আলীর মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও ৫–৬ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী।

এর আগে একই দাবিতে শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৮ মার্চ (বুধবার) নরসিংপুর ইউনিয়নের নছরনগর গ্রামের মরহুম আব্দুল খালিকের ছেলে আনছর আলী (৭০) নিজ মালিকানাধীন ফসলি জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী ক্বারী গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ফাহমিদা আক্তার (৬) পাশের জমিতে খেলছিল। এমন সময় একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আলমগীর হোসেন তার সাথে খেলায় যোগ দেয়। একপর্যায়ে ফাহমিদা কান্না শুরু করলে আলমগীর তাকে আনছর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে প্ররোচিত করে।

বিষয়টি পাশের জমিতে কাজ করা দৌলতপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪৯) শুনে আনছর আলীকে জানান। পরে শিশু ফাহমিদা ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে তখন আনছর আলীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি।

পরে আনছর আলী ও তার ছেলে রাকিব আলী (২১) বাজারে গেলে শিশুটির স্বজনরা মব তৈরি করে রাকিব আলীকে মারধর করে আহত করে। এসময় তারা আনছর আলীকে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে বাজার থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে বাড়িতে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পরদিন ১৯ মার্চ সকালে আনছর আলীর পরিবারের ফসলি জমি থেকে ফসল লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

ফসল লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরে স্থানীয় সমছু মিয়ার ছেলে মুন্না, মরহুম চমক আলীর ছেলে ছমরু মিয়া, রফিজ মিয়া ও সমছু মিয়া, শুকুর আলীর ছেলে সাইদুর রহমান ও ফয়জুর রহমান, মরহুম ছুরত মিয়ার ছেলে জায়েদ মিয়া, আব্দুন নুরের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও রুফুল মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

মানববন্ধনে নাছিমপুর বাজার কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন, সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নওশাদ জামিল, নছরনগর গ্রামের ফখরুল ইসলাম, সিরাজ আলী, নুর উদ্দিন, ফিরোজ আলী, লোকমান হোসেন, কুদ্দুস আলী, আব্দুস সালাম, নুরুজ আলী, জামাল হোসেন, সারপিন নগর গ্রামের আব্দুল লতিফ, আখল আলী, নাছিমপুর গ্রামের সিদ্দেক আলী, নুরুল হক, দৌলতপুর গ্রামের আলাউর রহমান, ইউসুফ আলী, ফজর আলী, আলিমুল ইসলাম, জুনাব আলী, আব্দুল কুদ্দুস, রহিমেরপাড়া গ্রামের লাল মিয়া, সমছু মিয়া, আব্দুল জব্বার, মন্তাজনগর গ্রামের বাতির আলীসহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

নাছিমপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী বলেন, আনছর আলী একজন সৎ মানুষ। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দোষী হলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু একজন ৭০ বছরের বৃদ্ধকে এভাবে হেনস্তা করা অনুচিত। পরদিন তার পরিবারের কয়েক লাখ টাকার ফসল লুটপাট করাও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা এসব ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন প্রথমে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ শোনা গেলেও পরে জানা যায় এটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা। তবে অভিযুক্তের জমি থেকে ফসল লুটপাটসহ ও জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, আসামি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।