গাইবান্ধা-৪

কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল, ফলাফল স্থগিতসহ পুনরায় ভোট গণনার দাবি

নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-৪ আসনের ছয়টি কেন্দ্রে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী প্রিজাইডিং অফিসারকে তালাবন্ধ করে রাখেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অ্যাজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেন। এ সময় তারা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষের সিল মারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তারা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি।

সৈয়দ রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা

Location :

Gaibandha
সংবাদ সম্মেলন করছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার
সংবাদ সম্মেলন করছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মেরেছে এমন অভিযোগে ছয়টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোগ গ্রহণ করে ফলাফল ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরের জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-৪ আসনের ছয়টি কেন্দ্রে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী প্রিজাইডিং অফিসারকে তালাবন্ধ করে রাখেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অ্যাজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেন। এ সময় তারা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষের সিল মারেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তারা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি।

ওই ছয় কেন্দ্র হলো— বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিরাভাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা, কুমিরাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোচাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিংহজানি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটে।

এছাড়া একটি কেন্দ্রে এক হাজার ৮০০ ভোটের স্থলে দুই হাজার ৮০০ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। রেজাল্ট শিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ফান্ডের বান্ডেলকে ১০০টি হিসেবে দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার একাধিক ভিডিও ও ডকুমেন্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।

দখল হওয়া কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হয়নি। এসব কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণ ও সকল কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনা করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার ও জেলা শিবিরের সভাপতি রুম্মান ফেরদৌসসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ।