কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তিল চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় এ বছরেই প্রথম পাঁচজন কৃষক মিলে ৩৫ বিঘা জমিতে বিনা উদ্ভাবিত বিনাতিল-২ জাতের তিল চাষ করে বাজিমাত দেখালেন তারা। স্বল্প সময়ে ভাল ফলন এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটছে। এমন সফলতা দেখে এখন তিল চাষের স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই ।
জানা গেছে, উপজেলার জাঙালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লক্ষীরচরের মাঠে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক মিলে এই তিল চাষ শুরু করেন। আবাদের মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এই ফসল ঘরে তুলা যায়। প্রতি বিঘা তিল চাষে কৃষকের খরচ হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা যা থেকে পাঁচ থেকে ছয় মন তিল পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মন তিল বাজারে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষি আলফাজ উদ্দিন মানিক জানান, ব্রহ্মপুত্রের তীরে আমরা প্রথমে আলুর আবাদ শুরু করি কিন্তু তেমন ভালো ফলন হয়নি। কৃষি অধিদফতরের পরামর্শে আমরা এ বছরই প্রথম তিল চাষ শুরু করি আর এতে কম খরচে ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি, বাজারে তিলের দাম ভালো থাকায় মুনাফাও ভালো হবে।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চরকাওনা এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লক্ষীরচরের খোলা মাঠে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় স্থানীয় শতাধিক কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো: শাহিনুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: আবুল কালাম আজাদ।
বিনার ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলকার নাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-বিনার ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান ড. মো: ইব্রাহিম খলিল, উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন, বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান ড. রেজা মোহাম্মদ ইমন, বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ও পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই-আলম।
এ সময় অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুস ছামাদ ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাফিজা আক্তার, বিভিন্ন ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ চরকাওনা এলাকার শতাধিক কৃষাণ-কৃষাণিরা উপস্থিত ছিলেন।



