রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেছেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এখন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না করার সুযোগ নেই। আইনের বাইরে আসলে আমরা একটি কাজও করতে পারছি না।’
বুধবার সকাল থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’ তবে অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।
দুপুরে সেখানে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন রাজশাহীতে এনসিপির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সহযোগী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ সকল ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
এতে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ বাতিল করা; যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমনপীড়নের সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।



