ইবিতে নিরাপত্তা জোরদার, ছাত্রদল-যুবদলের দফায় দফায় শোডাউন

সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে দফায় দফায় জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে শোডাউন করতে দেখা যায় তাদের।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কড়া নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কড়া নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কড়া নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। ছাত্রদলকর্মীর হাতে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ।

এছাড়া মধ্যরাত থেকে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিং করেছে প্রশাসন। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে দফায় দফায় শোডাউন করছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারি ও দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জুহায়েরকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলকর্মী আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে। আলীনুর আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা জিয়া হলে গিয়ে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের কক্ষের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় একপর্যায়ে হল এলাকায় ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় প্রক্টর অভিযুক্ত আলীনুরকে হল থেকে বের করে আনেন। এ সময় তাকে গাড়িতে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হামলায় প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।

এরপর বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বহিরাগতদের নিয়ে জড়ো হন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে বিকেল ৪টার নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটকে পড়ে।

এ সময় লাঠি, চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রধান ফটক থেকে ঝালচত্বর পর্যন্ত মহড়া দিয়ে তারা আবার প্রধান ফটকে ফিরে আসেন। সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও বক্তব্য দেন তারা। পরে প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়া হয়।

এরপর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় এক জামায়াতকর্মীকে ধাওয়া করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হলসংলগ্ন পকেটগেটের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে শনিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিং করা হয়। এ সময় বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার নির্দেশনা দেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। রোববার সকালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় মাইকিং করা হয়।

আজ সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে দফায় দফায় জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে শোডাউন করতে দেখা যায় তাদের। এ সময় প্রধান ফটকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

ক্যাম্পাসের ভেতরে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইবি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে এ সময় অবস্থান করতে দেখা যায়।

প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পর থেকেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি নির্দেশনা মাইকিং করে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান করছে। শিক্ষার্থীদের সব সময় পরিচয়পত্র সাথে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও মাইকিং করা হয়েছে।

প্রক্টর আরো বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।