নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়কে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সিএনজিচালকদের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। উপজেলার ঘাটাইল-সাগরদিঘী সড়ক ও সাগরদিঘী-গারোবাজার সড়কে অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে জিপি। তবে জিপি বন্ধ হলেও এ সড়কে বেড়েছে ভাড়া নৈরাজ্য। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন নৈরাজ্য শুরু করেছেন সিএনজিচালকরা। সিএনজি-অটোরিকশার চালকরা নির্ধারিত ভাড়া না নিয়ে, নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সাগরদীঘি থেকে ঘাটাইল সিএনজি-অটোরিকশা ভাড়া দ্বিগুণ হারে আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটাইল থেকে সাগরদীঘি যাতায়াতের প্রধান বাহন হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ পথে চলাচলরত অধিকাংশ যাত্রীই প্রতিদিনের যাতায়াতে সিএনজি-অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল। জেলা শহরের অফিসগামী মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিনই এ পথ ব্যবহার করেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, এ সড়কে সিএনজি-অটোরিকশার ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও কিছু অসাধু সিএনজি-অটোরিকশাচালক দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করে অসাধু চালকদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে।
মজিদ সিকদার নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে এই ভাড়া নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নির্বাচনের অজুহাত দিয়ে এই ভাড়া নৈরাজ্য শুরু হলেও তা এখনো চলছে। যাত্রীরাও বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি-অটোরিকশাতেই যাতায়াত করছেন।’
আকন্দেরবাইদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিন জানান, সিএনজি-অটোরিকশাচালকদের এ ধরনের নৈরাজ্য সত্যি খুব দুঃখজনক। বিকল্প কোনো যানবাহন না থাকায় সবাই তাদের হাতে এক প্রকার জিম্মি।
সাগরদীঘি এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এ সড়কের জিপি বন্ধ হয়েছে। এখন আর চালকদের জিপি নামের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় না। অথচ সড়কে ভাড়া কমানোর বদলে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন তারা। এরা সাধারণ যাত্রীদের ওপর জুলুম করছেন।’
সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য থামাতে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণ জানতে চাইলে সাগরদিঘী সিএনজি-অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে যাত্রীদের যাতায়াত একমুখী। ঘাটাইল থেকে আসার সময় খালি আসতে হয়। তাই ৮০ টাকার ভাড়া বর্তমানে ১০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।’
ঘাটাইল সিএসজি স্টেশনের কয়েক চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘাটাইল থেকে কোনো সিএসজি খালি যেতে হয় না। পূর্বের তুলনায় যাত্রী এখন আরো বেশি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আবু সাঈদ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।



