দেবিদ্বারে অপহরণের অভিযোগে ৫ যুবক আটক

বিল্লালকে অপহরণের উদ্দেশ্যে বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকাগামী মহাসড়কে একটি গাড়ির পেছনের ডালায় তাকে তোলা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা বিল্লালকে মারধর করেন। পরে তাদের সাথে বিল্লালের ধস্তাধস্তি হয়।

মো: ফখরুল ইসলাম সাগর, দেবিদ্বার (কুমিল্লা)

Location :

Cumilla
দেবিদ্বারে অপহরণের অভিযোগে আটক যুবকরা
দেবিদ্বারে অপহরণের অভিযোগে আটক যুবকরা |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগে পাঁচ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে অভিযুক্ত পাঁচ যুবককে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে বিল্লাল হোসেনকে অপহরণের সময় উপজেলার বাগুর স্টেশন এলাকা থেকে ওই পাঁচ যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দইয়ারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। বিল্লাল চান্দিনা পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

অভিযুক্ত পাঁচ যুবক হলেন— দাউদকান্দি উপজেলার খোশকান্দি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আমির হামজা, একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা, মুরাদনগর উপজেলার দইয়ার গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে জুয়েল রানা, একই গ্রামের ইউনুস মুন্সির ছেলে ইউসুফ ও দেবিদ্বার উপজেলার গাঙ্গচর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে তানভীর আহামেদ।

দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের বাড়িঘরে হামলা এবং তার ভাই ও বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার জের ধরে বিল্লালকে অপহরণের উদ্দেশ্যে বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকাগামী মহাসড়কে একটি গাড়ির পেছনের ডালায় তাকে তোলা হয়।

এ সময় অভিযুক্তরা বিল্লালকে মারধর করেন। পরে তাদের সাথে বিল্লালের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বিল্লালকে ‘মোবাইল চোর’ বলে চিৎকার করে এবং তাকে মারধর করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সবাইকে থানায় নিয়ে যায়।

জানা যায়, ওই পাঁচজন ছাড়াও আরো সাত-আট যুবক অপহরণের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের আটক করা যায়নি।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আগের একটি ঘটনার জেরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আমাকে অপহরণের চেষ্টা করতে চাচ্ছিল। তারা আমাকে মেরে ফেলবে বলে ঘোষণা করেছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইউনুস ও বর্তমান সদস্য আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় এবং আমাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বিল্লাল কয়েক দিন আগে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর থেকেই বিল্লালকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও শুক্রবার রাতে আমাদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেলা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন ‘ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের করা মামলায় অপহরণকারী পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’