পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ

অর্থাভাবে ভর্তি অনিশ্চিত মেধাবী মোস্তাফিজুরের

পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের ভর্তির সুযোগ।

শেখ সাবীর আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

Location :

Parbatipur
মোস্তাফিজুর রহমান
মোস্তাফিজুর রহমান |নয়া দিগন্ত

দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের ভর্তির সুযোগ। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আনন্দবাজার গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর খোরশেদ আলম ও মুছুদা খাতুন দম্পতির ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান। ছেলের এই অনিশ্চয়তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তার বাবা-মা।

জানা গেছে, পার্বতীপুরের আনন্দবাজার গ্রামের দিনমজুর খোরশেদ আলম ও মুছুদা খাতুন দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে, তারা নিজ বাড়িতে থাকেন। মোস্তাফিজুর রহমান তার বাব-মায়ের সাথে থাকে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। কাজ পেলে তিন সদস্যের পরিবারের সবার পেটে ভাত জোটে আর কাজ না পেলে উপোষ থাকতে হয়। পাঁচ শতকের বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। তবুও শতকষ্ট আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মোস্তাফিজুর রহমান তার শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয় মধ্যপাড়ার কাছে উত্তরা ইসলামিয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক পেরিয়ে মানবিক বিভাগে এইচএসসিতে ভর্তি হয় ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে। এইচএসসি পরীক্ষায় সে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান সম্মান ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সম্মান (অনার্স) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩০ তম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৮তম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯৫ তম এবং হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম মেধা তালিকায় ভর্তি সুযোগ পেয়েছে। তবে তার ইচ্ছা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়ার, যাতে সে পড়াশুনা শেষ করে একজন বিচারক হতে পারে।

অদম্য মেধাবী এই শিক্ষার্থী বলে, দিনমজুর পরিবারে আর্থিক দৈন্যতার মধ্যেও কোনো দিন লেখাপড়ার বিষয়ে ফাঁকি দেয়নি। মনোযোগ দিয়ে চালিয়ে গেছে তার লেখাপড়া। স্বপ্ন বুনেছে পড়ালেখা শেষ করে বড় কিছু হওয়ার, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার। আজ তার সেই স্বপ্ন দ্বারপ্রান্তে।

ভর্তির সুযোগ পেলেও পরিবারের অর্থাভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি নিয়ে বিপাকে পড়েছে মোস্তফিজুর। এছাড়াও ভর্তির পর সেখানে থাকা খাওয়া ও পড়ালেখার বাড়তি খরচ গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতদরিদ্র বাবার পক্ষে তা বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব না।

তার বাবা খোরশেদ আলম বলেন, ‘পরিবারের অভাবের জন্য ঠিকমতো ছেলের লেখাপড়ার খরচও দেয়া সম্ভব হয়নি। ছেলেটা নিজের চেষ্টায় এতোকিছু করেছে। গ্রামের লোকজন এসে বলে, আমার ছেলে নাকি অনেক বড় জায়গায় লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বড় জায়গায় পড়ানোর মতো সামর্থ্য তো আমার নেই। ছেলেটা কিভাবে পড়াশুনা করবে এটাই এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা গরু ছিল সেটা বিক্রি করে তো ওর ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে, এখন এমন কোনো সম্পদ নেই যে বিক্রি করে ওর লেখাপাড়ার যোগান দেবো।’

তিনি ছেলের ভর্তির জন্য সহযোগিতা চান সরকার প্রধানসহ দেশের দানশীল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি বিশেষের কাছে। সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ, মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল নং-০১৩৩-৩৮৯৭৩৭৭।