মাত্র চার মাস আগেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন জুঁই আক্তার (২১)। কিন্তু হাতের মেহেদির রং না মুছতেই জীবন দিতে হলো তাকে।
পারিবারিক কলহের জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষের ট্যাবলেট খায়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায় জুঁই।
এ সময় স্বামী-শ্বশুর হাসপাতালের বারান্দায় জুঁইয়ের লাশ রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তুলে জুঁইয়ের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মামলা দায়ের করেছেন জুঁইয়ের মা। জুঁই নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মরুপাড়া গ্রামের প্রবাসী জয়নাল শেখের মেয়ে।
জুঁইয়ের মা আরজিনা বেগম জানান, একই উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে মোকাদ্দেছ আলী শুভর (২৩) সাথে মেয়ে জুঁইয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে গত ১২ মার্চ তারা পালিয়ে বিয়ে করে। এরপর উভয় পক্ষ বসে পারিবারিকভাবে সমঝোতা করে আত্মীয়তা শুরু হয়। কিন্তু শুভর কোনো কর্ম না থাকায় এবং বেকার থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের সংসারে ঝগড়া-ঝামেলা হতো। এ সময় শুভ ও শুভর মা-বাবা আমার মেয়েকে নানাভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে মারধর করত এবং বারবার আত্মহত্যায় প্ররোচিত করত।
মেয়ে এসব বিষয়ে আমাদেরকে জানালে মেয়েকে ধৈর্য ধরে সংসার করার জন্য পরামর্শ দিতাম। ভাবতাম হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আবারো আমার মেয়ের সাথে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে আবারো আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি অপমান ও লজ্জা-শরমে লোকসমাজে মুখ দেখাতে না পেরে বিষের ট্যাবলেট খেয়ে বমি করতে থাকে।
এ সময় দেখতে পেয়ে মেয়ের স্বামী ও শ্বশুরেরা প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ সময় শুভ মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাই। এর মধ্যে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সে মারা যায়।
আরজিনা আরো বলেন, মেয়ে মারা যাবার সাথে সাথে লাশ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ কোনোটিই দেয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘জুঁইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা আরজিনা বিবি বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে শুক্রবার বিকেলে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।’
আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘জুঁইয়ের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’



