বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ নেতা এক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিএনপি কার্যালয়সহ ছয়টি বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন বিএনপির কর্মী, সমর্থক আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নাম মোশাররফ হোসেন মুশা। তিনি দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক।
এ হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তারা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলনা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ও মাপঝোঁক হলেও তা অমান্য করে ২০২০ সালে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন তারা। এ বিষয়ে মামলা করে বিল্লাল হোসেন জয়লাভ করলেও তাকে সম্পত্তিতে যেতে বাধা দেয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি শালিস বৈঠক ডাকা হলেও চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকগোষ্ঠী সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ নিয়ে শনিবার বিকেলে বাজারটিতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাত ৮টার দিকে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রায় দেড়শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চরপাড়া বাজার এলাকায় হামলা চালায়। এসময় বাজারটির তেমাথায় অবস্থিত বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দেড়শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কমলেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল গণি কাজীর ছেলে বিএনপি নেতা ইসরাইল কাজী (৫৬) মোকসেদ মাতুব্বরের ছেলে মো: নাজিমুদ্দিন মাতুব্বর, (৪০) আবু বকর শেখের ছেলে আব্দুল সালাম শেখ (৩০), সাজ্জাদ কাজী (২৫), আব্দুস সাত্তার মোল্যার ছেলে কাইয়ুম মোল্যা (৪৫) মারাত্মকভাবে আহত হন। এর মধ্যে কাইয়ুম মোল্লাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এছাড়া বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে মাওলানা বিল্লাল হোসেন মোল্যা জানান, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি জমির দখল নিতে পারেননি। বর্তমানে ওই জমি চেয়ারম্যান পক্ষের দখলে রয়েছে।
হামলার ঘটনায় তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ করেন।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি ইসরাইল কাজী বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আমরা বিএনপি অফিসে বসে দলীয় কর্মকাণ্ড করছিলাম। এসময় ফ্যাসিস্টের দোসর মুশা চেয়ারম্যান কয়েকশত লোক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের অফিসের চেয়ার টেবিলসহ দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের ছবি ভাঙচুর করে। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় নেতাকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করতে গিয়ে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা জানান, তার বাড়িতে তালা লাগানো হয়েছে এবং তার লোকজনকে উস্কানি দেয়া হয়েছে।
বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা পুলিশের, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালি সার্কেল) আজম খান বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’



