মিরসরাইয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বৃদ্ধা নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে মিরসরাই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মো: আলমগীর (৫৫), সুফিয়া খাতুন (৭৫), রোকেয়া আক্তার (৪৪), সেলিনা আক্তার (৫৫), ফারহানা আক্তার সুমি (৩৫), মুসলিম উদ্দিন (৩০)।
জানা গেছে, গত শুক্রবার নাজিরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা মো: আলমগীরের একটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল প্রতিবেশী মুসলিম উদ্দিন। এ সময় দেখে ফেলায় মুসলিম উদ্দিন ও আলমগীরের পরিবারের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর আলমগীরদের বাড়ি মনিটরিংয়ের জন্য শনিবার বিকেলে ঘরের পূর্ব দক্ষিণ পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছিল। এ সময় মুসলিম উদ্দিন তার ভাই সাইদুল ইসলাম ও তার বাবা আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ এসে আলমগীরের মা ও স্ত্রীকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হামলার শিকার আলমগীরের ভাই মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে একাধিকবার চুরি ও হামলার ঘটনার কারণে শনিবার বিকেলে ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সময় সাইদুলের নেতৃত্বে, তার ভাই মুসলিম, বাবা আবুল কাশেমসহ আরো ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ এসে আমাদের পুরো বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। এরপর আমার রোজাদার স্ত্রী, ভাই, মা, ভাবিসহ ঘরের সবাইকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার জন্য কেউ ভয়ে সাহস পাচ্ছেন না। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে সাইদুল আমাদের ওপর নির্যাতন করে যাচ্ছে। তার কাছে আমরা জিম্মী হয়ে আছি।’
এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি জায়গা নিয়ে আলমগীরদের সাথে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। ওই জায়গার বিরোধ নিষ্পত্তি না হলেও আলমগীররা আমার চাচার ঘরের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাচ্ছিল। লাগানোর জন্য নিষেধ করলে তাদের পরিবারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। আমার ভাই মুসলিমকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তার হাতের একটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।’
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মিরসরাই পৌরসভার নাজিরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



