মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এই স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে এজন্য পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই পদক্ষেপগুলো নিয়েছি।’
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে গাজীপুরের কালিয়াগর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবকিছুই উনার নজরে রয়েছে। আশা করি বাংলাদেশের জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা জনগণের সেবক হয়ে কাজ করব। আমরা যতক্ষণ আছি জনগণের সেবা দিয়ে যাব।’
এসময় গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কের কি অবস্থা এগুলো জানতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকালবেলায় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রা মোড়ে এসে বসে রয়েছেন। আমাদের ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন এটা নিয়ে সরকার কতটুকু সিরিয়াস বোঝাই যাচ্ছে। আমরা আশা করব আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ঈদ যাত্রা সুন্দর ও নির্বীঘ্ন হবে।’
এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাসড়কের অবস্থা ২৪ ঘন্টা মনিটরিং করছেন। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সে বিষয়ে তিনি আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই নির্দেশের আলোকেই আমি, ডিআইজি ও আমার দু’জন অ্যাডিশনাল ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। যেন মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।’
এদিকে, গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকাল থেকে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ বেড়েছে। যানজট না থাকলেও ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।
পুলিশ বলছে, ‘দুপুরের পর গাজীপুরে দ্বিতীয় ধাপে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হবে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এই দুই মহাসড়কে আরো বেশি চাপ বাড়বে।’
এদিকে জেলার বিভিন্ন মহাসড়কে থাকা বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ রাখার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বরাবরের মত এবারও যাত্রীদের কাছে থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ভাড়ার আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।
কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাইপাইল থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো চন্দ্রা ত্রিমোড়ে প্রবেশ মুখে পুলিশ গণপরিবহণ থেকে টাকা নিয়ে পরিবহন কাউন্টারের সামনে গাড়ি রাখতে দেয়। পরিবহনগুলো টাকা না দিলে সড়ক থেকে দ্রুত সরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ কাউন্টার কর্তৃপক্ষের।
মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো চন্দ্রা আসতে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় লাগছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চার শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে, তেল সিন্ডিকেটের সৃষ্ট কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে যাত্রাপথে পরিবহন চলাচলে বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে চালকরা।



