বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমার বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান সবাইকে এক চোখে দেখেছেন। অন্য দলের লোক আসলে তার কাজ আগে করে দিয়েছেন, তার উপকারটা আগে করেছেন। তার মন ছিলো অনেক বড় সমুদ্রের মতো তার কলিজাটা ছিলো বিশাল। এই বড় কলিজাওলা মানুষের যারা কর্মী আপনারা সবাই ওবায়েদ সৈনিক। আপনাদেরকেও কলিজা বড় করতে হবে। অনেক বড় কলিজা ও মন নিয়ে ১২ তারিখের জন্য লড়াই করতে হবে। ছোট মন ও ছোট কলিজা নিয়ে নগরকান্দায় রাজনীতি করা যায় না, মনটা অনেক বড় হওয়া লাগে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার চান্দাখোলা গ্রামে প্রবীণ বিএনপি নেতা মরহুম বদিউজ্জামান মোল্যার বাড়িতে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সালথা উপজেলার প্রত্যেকটা মানুষের ঋণী থাকা উচিৎ। কারণ সালথার উন্নয়নে তার ভূমিকা অনেক। ২০০১ সালে আমার বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান এমপি হলেন- জেল খেটে বের হলেন। সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন উনি সালথা উপজেলায় আসছিলেন। সেই সময় বিশাল জনসভা হয়েছিলো। সেই জনসভায় উনি সালথাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই কারণেই সালথা উপজেলার বিভিন্ন পার্যায়ে তারপর থেকে আমরা উন্নয়ন দেখেছি।’
তিনি আরো বলেন, আপনারা সকলে দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারি তারিখে ধানের শীষের ভোটটা নিশ্চিত করবেন। আমাদের এখন দলমত দেখলে হবে না। আমাদেরকে কোন দল করে কে কোন মত করে এটা আমাদের বিষয় না। আপনারা যদি সোনাপুরের উন্নয়ন চান সালথা উপজেলার উন্নয়ন চান আমার বাপ উন্নয়ন করে গেছেন। কিন্তু এই ১৭ বছর আগে যে রাস্তা টা ছিলো এখন কিন্তু সেই রাস্তাটা দিয়েই হাটতেছেন। নতুন কি রাস্তা হয়েছে সেটা কিন্তু আমি দেখি নাই। সালথা উপজেলা অনেক পিছিয়ে আছে। এখানে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিভার্সিটি, হাসপাতাল ও কর্মসংস্থান দরকার এইগুলা আমি করতে চাই। এইগুলা আমি একা-একা করতে পারবো না। এই গুলো করতে হলে আপনাদের সবার সহযোগিতা লাগবে। আপনাদের ছাত্র সমাজ যুব সমাজ আমাদের নারী সমাজ আমাদের মুরুব্বিদের জন্য যদি কিছু করতে হয় তাহলে আপনাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি যদি সংসদে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই নগরকান্দা-সালথা উপজেলার উন্নয়ন আমরা করবো, ইনশাআল্লাহ।’
দোয়া মাহফিলে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মনির মোল্যার সঞ্চালনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই অনুষ্ঠানে সদ্য পদত্যাগকারী সালথা উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিন খন্দকার শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।
আলোচনা সভা শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ্।



