সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিক ও তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা সেলিমের বিরুদ্ধে। এতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘুড়কা ইউনিয়নের ঘুড়কা নতুন পাড়া গ্রামের ‘কান্দর’ ও ‘গারা ক্ষেত’ নামে পরিচিত বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা শ্যলো মেশিনের সাহায্যে ক্ষেতের পানি কমিয়ে ফসল ফলাতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকে। যার ফলে বছরে মাত্র একবার ধান চাষ করতে পারলেও সামান্য বৃষ্টিতেই লাগানো ধান পানিতে তলিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কৃষক হানিফ মন্ডল, তোমেজ উদ্দিন শেখ, হাজী সোরহাব, সুরুত জামান, পরেশ তালুকদার ও নিখিল পাল অভিযোগ করে জানায়, আমাদের এ দু’ফসলি জমিতে একসময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল এবং ভালো ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু ১৬ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক ও তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা সেলিম ভয়ভীতি দেখিয়ে দরিদ্র ও অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে জমিগুলো নামমাত্র মূল্যে লিজ নিয়ে চারদিকে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করেন।
কৃষকদের দাবি, এসব বাঁধ নির্মাণের ফলে আশপাশের অবশিষ্ট কৃষি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিসি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং জমির মালিকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ না করা হলে ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দিনমজুর ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারগুলো খাদ্য ও কর্মসংস্থানের চরম সংকটে পড়ার সম্ভাবনায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানায় অভিযোগকারীরা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও চাষাবাদের ব্যবস্থা করার দাবি জানায় স্থানীয় কৃষকরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রফিক ও সেলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেননি তারা।
রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে পরামর্শ করব।’
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



