নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনের পর রায়গঞ্জে ৪০ বছরের জলাবদ্ধতার অবসান

৪০ বছর ধরে জমিগুলো পানির নিচে থাকায় চাষাবাদ করতে পারিনি। এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় জমিগুলো আবার আবাদযোগ্য হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং এলাকায় কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Raiganj
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইপলাইন বসানো হচ্ছে
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইপলাইন বসানো হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসার পথ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঘুড়কা ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন উদ্বোধন করেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আবদুল খালেক পাটোয়ারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘুড়কা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা নিজেদের অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন।

ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার কৃষক তমেজ আলী, রফিকুল ইসলাম, রোকন ও শরিফুল ইসলাম জানান, এ এলাকায় প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে কৃষকদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর জগন্নাথপুর এলাকায় প্রায় এক হাজার ১০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। পানি নিষ্কাশন হলে দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকা জমিতে তারা এখন তিন ফসলি আবাদ করতে পারবেন।

কৃষকরা বলেন, ৪০ বছর ধরে জমিগুলো পানির নিচে থাকায় চাষাবাদ করতে পারিনি। এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় জমিগুলো আবার আবাদযোগ্য হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং এলাকায় কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রকৌশলী আনন্দ বর্মন বলেন, কারিগরি দিক বিবেচনা করেই পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের কাজে আসবে।

রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ফলে বিপুল পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আসবে। এতে কৃষক ও স্থানীয় অর্থনীতি উভয়ই উপকৃত হবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমিতে এখন ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরিফুল ইসলাম খোকন, হযরত আলী, আব্দুল মমিন মাস্টার, রহমতুল বারী লানা, আমির হোসেন, আব্দুল্লাহেল কাফী, মনিরুজ্জামান, আব্দুল আলীম, রফিকুল ইসলাম সঞ্জাব প্রমুখ।