নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর আমানউল্যাপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনকল্যাণ কার্যালয়ে হামলা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে নিন্দা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে এই দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এক দল যুবক জামায়াত কার্যালয়ে হামলা ও গুলি বর্ষণ করে।
প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার একদল দুর্বৃত্ত আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে বিনা উস্কানিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরবর্তীতে শনিবার রাতে আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের বাড়িতেও হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বেগমগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা আবু জায়েদ ও সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম।
প্রতিবাদ জানিয়ে নেতারা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ১০ আগস্ট পুনরায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে হামলার প্রস্তুতিকালে একজন ব্যক্তি নিজের সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে নিজ ঘরেই আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জামায়াতকে দায়ী করে অপপ্রচার চালান হচ্ছে। আহত ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জামায়াতকে দায়ী করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নেতারা বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো মহল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা এর নেতাকর্মীদের দায়ী করার চেষ্টা করছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, হামলা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় জামায়াতে ইসলামী বা এর শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের ওপর চাপিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
একই সাথে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বানও জানায় তারা।
দাবিসমূহ হলো—
ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে।
হামলা, গুলিবর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
কোনো নির্দোষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনকে হয়রানি করা যাবে না।
এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তদন্তের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।



