কালিমার পতাকা হাতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা : কোরআনের শিক্ষার প্রতি আহ্বান

‘আমরা চাই মানুষ কোরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ইসলামের আদর্শের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হোক। সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এ প্রতীকী শোভাযাত্রার আয়োজন।’

Location :

Madarganj
র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা
র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা |নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালিমার পতাকা ও জাতীয় পতাকা হাতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এ শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়।

আয়োজকদের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদর থেকে শুরু হয়ে গাবেরগ্রাম, বালিজুড়ী বাজার ও জুনাইল বাজার হয়ে হাওয়াই রোড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে অংশগ্রহণকারীরা কালিমার পতাকা ও জাতীয় পতাকা বহন করেন। স্থানীয় আলেম, শিক্ষক ও তরুণসহ প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন মাদারগঞ্জ ইউনিক মডেল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মাহফুজুল রহমান হাওলাদার, মাওলানা নুরুল ইসলাম, ইমরানসহ আরো অনেকে।

শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাওলানা মাহফুজুল রহমান হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমানে মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করেও অনেক সময় মানুষ অতিরিক্ত উন্মাদনায় মেতে ওঠে। আমরা চাই মানুষ কোরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ইসলামের আদর্শের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হোক। সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এ প্রতীকী শোভাযাত্রার আয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বড় বড় পতাকা টানানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই এসব পতাকা ও ব্যানার তৈরিতে অযথা অর্থ ব্যয় করছেন। এমনও শুনেছি, কেউ কেউ এ ধরনের আয়োজন করতে গিয়ে জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আমরা মনে করি, একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের পরিচয়ের প্রতীক কালিমার পতাকাকে সম্মান ও প্রচার করা উচিত। সে উদ্দেশ্যেই মানুষকে ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে এবং কোরআনের শিক্ষার দিকে আহ্বান জানাতে এই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, দল বা দেশের বিরোধিতা করা নয়। বরং মানুষকে কোরআনের শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক জীবন গঠনের প্রতি উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজ থেকে মাদক, অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এ সময় পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়।