সুপরিচিত কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্রটি বেকার যুবকদের ঢাকার একটি বৃহৎ কোম্পানিতে অডিটের চাকরিসহ বিভিন্ন চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করছে।
জানা গেছে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ই-মেইলে সিভি নেন। সিভি নেয়ার পর জামানত হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা নেন। পরে প্রতারক চক্রটি যাদের সিভি নিয়েছে, তাদের পরিচয় দিয়ে ওই এলাকার লোকজনকে ফোন দিয়ে আস্থা অর্জন করে। সবশেষে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদেরকেও প্রতারিত করে। চক্রটি এমন করে ধারাবাহিকভাবে ভূরুঙ্গামারীতে প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতারণার শিকার রাজু মিয়া (৩০) বলেন, ‘চাকরি পাওয়ার আশায় গত সোমবার (৪ মে) প্রতারক চক্রের দেয়া ই-মেইলে সিভি এবং ০১৭০৪৩৯৭৬১০ ও ০১৮৬১৮৩৪৯৭৭ বিকাশ নম্বরে ১২ হাজার টাকা দেই। প্রতারক চক্রটি আমার সিভির তথ্য ও পরিচয় ব্যবহার করে মঙ্গলবার আবু জোবায়ের (২৭) নামে একজনকে ফোন দিয়ে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে দু’টি বিকাশ নম্বরে (০১৮৬৯১৭২০১২ ও ০১৬১৪১৪৮৯১) আট হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর আবু জোবায়েরের পরিচয় দিয়ে তার কলেজ শিক্ষক হাফিজুর রহমান ও আফসার উদ্দিনকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে।’
আবু জুবায়ের বলেন, ‘আমাদেরকে রাজু মিয়া পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে ই-মেইলে সিভি চায়। সিভি পাঠানোর পর আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আট হাজার টাকা চায়। টাকা পাঠানোর পর যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আমার পরিচয় দিয়ে এক স্যারকে ফোন দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে।’
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের প্রভাষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতারক চক্রের সদস্য আমাদের ছাত্রের পরিচয় দিয়ে বেকারদের চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন এবং চাকরির জন্য খরচ বাবদ টাকা চান। এতে সন্দেহ জাগে। অধিকতর নিশ্চিত যে ছাত্রের পরিচয় দিয়েছিল, তার সাথে ও তার বাবার সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারি যে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তখন বুঝতে পারি, এটি প্রতারক চক্রের কাজ।’
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘চাকরি দেয়ার আশ্বাসে প্রতারণার বিষয়টি রোধ করতে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে। এলাকার মানুষ সচেতন না হলে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে না। শুধুমাত্র পুলিশি তদন্ত বা কোর্ট দিয়ে এরূপ প্রতারণা রোধ করা সম্ভব নয়।’



